সায়েন্স ফিকশন সাহিত্যে ফিলিপ কে. ডিক ব্যাপক পরিচিত আর জনপ্রিয় একটা নাম। আপনাদের এই নাম শুনে থাকারই কথা, বিশেষ করে যারা সিনেমা আর টিভি সিরিজেরও ফ্যান। ব্লেড রানার, মাইনোরিটি রিপোর্ট কিংবা হালের আমাজন প্রাইমের টিভি সিরিজ দ্য ম্যান ইন দ্য হাই ক্যাসল এর মতো দারুণ সব আইডিয়া এই লোকটার মাথা থেকেই এসেছে।
অসংখ্য ছোট গল্প, নভেলা এবং উপন্যাসের রচয়িতা ফিলিপ কে. ডিক। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে – দ্য ম্যান ইন দ্য হাই ক্যাসেল, ডু এন্ড্রয়েড ড্রিম অফ ইলেকট্রিক শিপ, উবিক, অ্যা স্ক্যানার ডার্কলি, সেকেন্ড ভ্যারাইটি ইত্যাদি। সায়েন্স ফিকশনের এমন দারুণ একজন লেখকের গল্পগুলোর উপর ভিত্তি করে আমাজন প্রাইমের অ্যান্থলজি সিরিজ ইলেকট্রিক ড্রিম।

নেটফ্লিক্সের আছে ব্ল্যাক মিরর তাই আমাজন প্রাইমেরও একই ঘরানার কিছু একটা থাকা চাইই চাই। হয়তো এমন চিন্তাধারা থেকেই এই সিরিজের নির্মাণ। যদিও ব্ল্যাক মিররের ধারে কাছে ইলেকট্রিক ড্রিম যেতে পারেনি। তবে তাই বলে এতটাও খারাপ কিছু না। উপরন্তু এটা আসলে স্টান অরিজিনাল। খুব সম্ভবত আমাজন প্রাইম অরিজিনাল হিসেবে কিনে নিয়েছে বা কিছু একটা হবে। যাক গে সেসব কথা, আসলে খারাপ বা ভালো লাগাটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তারপরও কিছু কথা থাকে। থাক এতসব কথা, তার চাইতে বরং আমরা গল্পগুলো সম্পর্কে আগে জেনে নেই।

রিয়েল লাইফ – সারাহ একজন পুলিশ অফিসার। অতীতের একটা ক্ষতকে নিজের দোষ বলে এখনো অপরাধবোধে ভুগছে। কোনোভাবেই সেই ক্ষতটাকে সারিয়ে কিংবা এড়িয়ে যেতে পারছে না সারাহ। তার স্ত্রী কেটি পরামর্শ দেয় ভার্চুয়াল সিমুলেশনের সাহায্যে খানিকটা সময় অবকাশ যাপনের জন্য। এর জন্য বেশিকিছুর দরকার নেই কেবল একটা ডিভাইস লাগিয়ে খানিকটা সময়ের জন্য অন্যের জীবন যাপন করা; ব্যস রিলাক্স। সারাহ রাজি হয় এবং অবকাশ যাপনে চলে যায়। অন্যপ্রান্তে সারাহ জর্জ নামে একজন পুরুষমানুষ হিসেবে নিজেকে আবিষ্কার করে; যার স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। সারাহ এবং জর্জ দুজনের কাছেই ভার্চুয়াল সিমুলেশনের জগতটাকেই আপন মনে হয়।
১৯৫৪ সালে প্রকাশিত ফিলিপ কে. ডিকের এক্সহিবিট পিস গল্প অবলম্বনে রিয়েল লাইফ চিত্রনাট্যটা সাজানো হয়েছে। অ্যান্থলজি সিরিজের শুরু হিসেবে এই গল্পটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। নিজের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা হয়ে ওঠা এক নারী খুঁজে পায় এক নিঃসঙ্গ পুরুষসত্ত্বাকে। নিজের অযাচিত দুঃখটাকে ভুলে যেতে বাস্তব জীবন বর্জন করে ভার্চুয়াল জীবনে আগ্রহী হয়ে উঠে। অদ্ভুত সুন্দর একটা গল্প। অভিনয়ে ছিলেন জর্জ চরিত্র টের্যান্স হাওয়ার্ড এবং সারাহ চরিত্রে অ্যানা প্যাকুইন। গল্পটা ভালো এবং অভিনয়ও ভালো হয়েছে।

অটোফেক – আমাদের চিরচেনা সমাজ আর বিশ্ব ধ্বংস হয়ে গেছে। একটা ওয়েস্টল্যান্ডের গল্প এটা। একটা বিশালাকার অটোমেটিক কারখানা বর্তমানে এই ওয়েস্টল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ করছে। গ্রাহকদের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত এই কারখানা মানুষকে সুখী করে। কিন্তু ক্রমাগত চাহিদার কারণে তারা পছন্দ করার বা বলার স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা শুরু করে। বিদ্রোহীদের একটা ছোট দল এই কারখানা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু তারা নিজেও জানে না কত বড় ধোঁকা অপেক্ষা করছে তাদের জন্যে।
একই শিরোনামের গল্প থেকে চিত্রনাট্যটি সাজানো হয়েছে। গল্পটা ভবিষ্যতের পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে চিত্রনাট্য লিখেছেন টিভি সিরিজ কার্নিভাল রো বা মুভি প্যাসিফিক রিম এর মতো জনপ্রিয় মুভির লেখক ট্রাভিস বিচাম। গল্প বেশ গুছানো। তবে গল্পের গতি নিয়ে খানিকটা সংশয় তৈরি হতে পারে। যদিও শেষের সিনটাই পুরো গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। অভিনয়ও বেশ ভালো ছিল। এই গল্পটাও বেশ উপভোগ্য।

হিউম্যান ইজ – ভবিষ্যত দুনিয়ার কথা। ভেরা প্রেমহীন বিয়েতে ভুক্তভোগী এক নারী। জীবনটা তার বড়ই বিবর্ণ আর মলিন। শরীরের প্রয়োজনে চাহিদা মেটে কিন্তু মনের মিল ঘটে না। এক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর ভেরা অদ্ভুত এক পরিবর্তন দেখতে পায় স্বামী সিলাসের মধ্যে। হঠাৎ করেই বেশ আবেগপ্রবণ আর দায়িত্বশীল হয়ে উঠে তার স্বামী। ব্যাপারটা একদিকে যেমন আনন্দ দেয় তেমনি সন্দেহের উদ্রেকও ঘটায়। সিলাস কি আসলেই তার স্বামী নাকি অন্য কেউ কিংবা অন্য কিছু?
গল্পটাও একই শিরোনামে ছিল। অভিনয়ে ছিলেন ব্রেকিং ব্যাড খ্যাত ব্রায়ান ক্র্যানস্টোন। ব্রায়ানের অভিনয় নিয়ে তো বলার কিছু নেই। গল্পটা ভালো। বেশ গুছানো আর দারুণ এক উপলব্ধিবোধ লুকিয়ে আছে গল্পটার ভাঁজে। কিন্তু গল্পটা খুবই ধীরগতির বলে মনে হয়েছে। খুব বেশি একটা জমজমাট বলে মনে হয়নি। যদিও অনেকের কাছে ভালো লাগবে গল্পটা।

ক্রেজি ডায়মন্ড – ভবিষ্যতের দুনিয়া যেখানে সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিক নিয়মে চলে। এই দুনিয়ার একজন সাধারণ মানুষ হচ্ছেন এড মরিস। স্ত্রীকে নিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করেন এড। একদিন এই স্বাভাবিক জীবনযাপনে আচমকা রঙিন কিছু মুহূর্ত নিয়ে আগমন ঘটে জিলের। জিলের আগমনের পর থেকে এডের জীবন বদলে যেতে শুরু করে এবং তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়ায়।
মূল গল্পটার নাম সেলস পিস। মূল গল্পটা পড়া হয়নি তাই বলতে পারলাম না গল্পটাই এমন নাকি চিত্রনাট্যই এমন। যাক গে, আমার কাছে এই গল্পটা একদমই ভালো লাগেনি। ফিলিপ কে. ডিকের আরো অনেক ভালো গল্প ছিল সেগুলো ফেলে এই গল্পটা কেন বাছাই করা হলো বুঝলাম না। আর নয়তো বলবো চিত্রনাট্যকার বা পরিচালকের দোষ যে গল্পটা ফুটিয়ে তুলতে পারেনি। অথবা স্বয়ং আমিই যার মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে এই গল্পটা।

দ্য হুড মেকার – এমন এক দুনিয়ার গল্প এটা যেখানে আধুনিক বা উন্নত প্রযুক্তি বলতে কিছু নেই। মিউট্যান্ট টেলিপ্যাথিই হচ্ছে দূর-দূরান্তে মানবজাতির একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা তা করতে বাধ্য হয়। জনগণের মধ্যে ক্রমেই বিষয়টা রোষানলে পরিণত হতে থাকে। এরিমধ্যে একদল এক ধরণের হুড বা মুখোশ আবিষ্কার করে ফেলে যেগুলো ভেদ করে মিউট্যান্ট টেলিপ্যাথি সম্ভব না। একজন মিউট্যান্টকে সঙ্গী নিয়ে এক গোয়েন্দা ছোটে এই তদন্তের কাজে, যেখানে তাদের দুজনেরই অতীত জড়িত।
মূল গল্পটার নামও দ্য হুড মেকার। বলতে গেলে অন্যান্য গল্পের তুলনায় এটা অনেকটাই ব্যতিক্রম। এইচবিওর দ্য ওয়াচম্যান সিরিজটা যেমন খানিকটা ডার্ক সাইট রিলেটেড, হুড মেকার অনেকটাই তেমন। গল্প আর চিত্রনাট্য বেশ ভালো আর গুছানো। অভিনয় আর নির্মাণও ভালো লেগেছে। সবদিক বিচারে এই এপিসোডটা খানিকটা ব্যতিক্রমী আর ভিন্নধারার হলেও বেশ উপভোগ্য বলবো।

সেফ এন্ড সাউন্ড – আইরিন লি আর ফস্টার লি সামাজিক বৈষম্যতার শিকার হয়ে বড় এক শহরে আসে। ফস্টার ভর্তি হয় বড় শহরের অন্যতম প্রধান এক স্কুলে। এই স্কুলের সবকিছুই চলে এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্রেসলেটের সাহায্যে। হলোগ্রাফিক স্ক্রিনের মাধ্যমে সেই ব্রেসলেট একজন নাগরিকের সকল সমস্যা সমাধান করতে পারে। এমনকি বাঁচাতে পারে যে কোন সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড থেকেও। যেহেতু ফস্টার লি ছোট শহর থেকে এসেছে তাই সবাই তাকে খানিকটা সন্দেহের চোখে দেখে। তার উপর আবার ফস্টার লির মা কখনোই এই পরাধীনতার ব্রেসলেট মেয়েকে দিতে রাজি নয়। কিন্তু ফস্টার লি লুকিয়ে একটা ব্রেসলেট নিয়ে নেয়।
মূল গল্পের নাম ফস্টার, ইউ ডেড। এই গল্পটা ভালো। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদেরকে চাইলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কোন ব্যাপারই না। এমনই একটা ডার্ক ম্যাসেজ লুকিয়ে আছে গল্পটাতে। তবে বলতে গেলে আসলে বাড়িয়ে বলা হয়ে যাবে কিংবা ওভাররেটেড মনে হতে পারে। এর কারণ হচ্ছে এই গল্পটা আমাদের খুবই পরিচিত। যাক গে, পরিচালক হিসেবে ছিলেন অ্যালেন টেইলর – টিভি সিরিজ গেম অফ থ্রোনস এবং মার্ভেলের মুভি থর দ্য ডার্ক ওয়ার্ল্ড এর পরিচালক। নির্মাণ ভালো আর গল্পও গুছানো। এই গল্পটাও দারুণ উপভোগ্য।

দ্য ফাদার থিং – চার্লির নিজের বাবার সঙ্গে বেশ ভাব। বাবা ছাড়া কিছু বুঝে না ছেলেটা। বাবার সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে একরাতে দেখতে পায় আকাশে অদ্ভুত কিছু দৃশ্য। এরপর একদিন আচমকা বাসার পেছনে থাকা স্টোররুমে গিয়ে দেখে ভিন দেশের কিছু একটা তার বাবাকে মেরে তার জায়গায় বদলী হয়ে গিয়েছে। চার্লি সবাইকে জানায় কিন্তু কেউ ওকে বিশ্বাস করে না। ধীরে ধীরে শহরের সবাই বদলে যেতে শুরু করে। চার্লি আর ওর বন্ধুবান্ধব কি পারবে সবাইকে বাঁচাতে?
এই গল্পের শিরোনামও একই। গল্পটা ভালো। আসলে ভালো বলতে বাচ্চাদের জন্য দারুণ উপভোগ্য একটা গল্প হতে পারে এটা। এই গল্পটা আমাদের অনেক পরিচিত। কেননা, হালের স্ট্রেঞ্জার থিংস ঘরানার এই গল্পটা। তবে একটা বাচ্চা ছেলের সঙ্গে তার বাবার সম্পর্কটা দারুণভাবে ফুটে উঠেছে গল্পে। তবে আমার মতে গল্পটা ফুটাতে পারেনি। শুরু থেকে ভালোই ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে যেন ম্লান হয়েছে – এমন মনে হয়েছে। এভারেজই বলবো।

ইম্পসিবল প্লানেট – এক স্পেসশীপের দুজন ট্যুরিজম কর্মকর্তার কাছে এক বৃদ্ধা অনুরোধ করেন শেষবারের মতো একবার পৃথিবী নামক গ্রহটাকে দেখতে চান। কিন্তু বৃদ্ধা জানেন না যে, পৃথিবী হচ্ছে এমন এক গ্রহ যা সৌর তাপের তীব্রতায় এর সকল প্রাণ হারিয়েছে। অনেক ধনী আর সম্ভ্রান্ত বলে তার অনুরোধ ফেলতে পারে না ট্যুরিজমের কর্মকর্তারা। ফলে এক অনিশ্চিত যাত্রার দিকে ছুটে যায় স্পেসশীপের সবাই। একইসঙ্গে একের পর এক গল্পের ভাঁজে থাকা গল্প বের হতে থাকে।
এভারেজ প্রেমের একটা গল্প। হ্যাঁ এটা বলা ছাড়া আর অন্য কিছু খুঁজে পেলাম না। তবে প্রেমের হলেও খানিকটা ব্যতিক্রম। ভিন্ন ধারায় উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগেনি এই গল্পটা। বোরিং মনে হয়েছে।

দ্য কমিউটার – এড জ্যাকবসন একজন স্টেশন কর্মচারী। খুবই সাধারণ জীবনযাপন করে লোকটা। একদিন এক রহস্যময়ী মেয়ে এসে একটা অস্তিত্বহীন স্টেশনের টিকেট চায়। চোখের পলক ফেলতেই মেয়েটা গায়েব। মেয়েটার বর্ণনামতো এড নিজেই একদিন ছুটে সেই অস্তিত্বহীন স্টেশনের খোঁজে। সেই স্টেশনে নেমে অদ্ভুত সুন্দর আর সাজান-গোছানো এক শহর খুঁজে পায় এড। ধীরে ধীরে এড সেই শহরের প্রতি আসক্তিতে পড়ে যেতে থাকে।
এই গল্পটা ভালো ছিল। নিজের সঙ্গে নিজের দ্বন্দ্বের একটা গল্প। আসলে আমাদের যা আছে তা নিয়েই আমাদের নিজেদেরকে সুখী ভাবাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুখ নামক মরীচিকার জন্য সাগর পাড়ি দেবার কোন দরকার নেই। নিজের পরিবার আর নিজের লোকগুলোই যথেষ্ট এক চিলতে সুখের জন্য। গল্প আর চিত্রনাট্য দুটোই বেশ ভালো লেগেছে। নির্মাণও ভালো হয়েছে। আগের দুইটা গল্পের তুলনায় এই গল্পটা দারুণ লেগেছে।

কিল অল আদার্স – ফিলবার্ট একদিন যাত্রাপথে রাস্তার মোড়ে একটা লাশ ঝুলে থাকতে দেখতে পায়। আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে সবাইই ঝুলন্ত লাশটাকে দেখে কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করে না। যেন এইটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফিলবার্টের উসখুশ লাগে। এরিমধ্যে নির্বাচনের পদপ্রার্থী এক প্রতিনিধি সহিংসতাকে আরো উসকে দেয়। ফলে ফিলবার্ট বিপদের গন্ধ পায়। কিছু একটা তো ঝামেলা হচ্ছেই। হয়তো দেখা যাবে আজকের সেই ঝুলন্ত লাশটার জায়গায় কাল ফিলবার্টই ঝুলে আছে।
মূল গল্পটার নাম দ্য হ্যাঙ্গিং স্ট্রেঞ্জার। ফিলিপ কে. ডিকের সঙ্গে আমার পরিচয়টাই মূলত এই গল্প দিয়ে। গল্পটা আমার অসম্ভব পছন্দের। এমনকি এই গল্পের অনুবাদও করেছি আমি। যাক গে, মূল প্রসঙ্গে ফিরি। গল্পটা আমার দারুণ লাগলেও এর উপস্থাপন মোটেও ভালো লাগেনি আমার কাছে। মূল গল্পটা খুবই সুন্দর আর বেশ থ্রিল একটা ভাব আছে।

আপনি একদিন রাস্তায় নেমেই দেখলেন একটা লাশ ঝুলছে। অথচ আপনার প্রতিবেশী আপনাকে বলছে – তাতে কি হয়েছে? এটা তো এখানেই থাকবার কথা! ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত, না? হ্যাঁ মূল গল্পটার শুরুটা এমনই। কিন্তু চিত্রনাট্যে ব্যাপারটাকে ভবিষ্যতের দুনিয়ার সঙ্গে মিশেল ঘটাতে গিয়ে একদম গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছে। গল্প ভালো কিন্তু এই গল্পের উপস্থাপন এইভাবে অন্তত আমার কাছে ভালো লাগেনি। যদিও নির্মাণ ভালো হয়েছে।
তো এই ছিল অ্যান্থলজি ইলেকট্রিক ড্রিম আর তার গল্পের আলাদা আলাদা বিবরণ আর প্রতিক্রিয়া। আবারও বলছি ফিলিপ কে. ডিক আমার খুবই পছন্দের একজন সাই-ফাই লেখক। তাই অনেক আশা নিয়েই দেখতে বসেছিলাম এই অ্যান্থলজি সিরিজটা। তবে সেই আশায় গুড়েবালিও না আবার আশা পূর্ণও না। মোটামুটি এভারেজ লেগেছে পুরো সিরিজটা। আইএমডিবিতে রেটিং ৭.৩/১০ আর রটেন টমেটোসে আছে ৭২% শতকরা।

একটা বিষয় একটু স্পষ্ট করা দরকার। এই গল্পগুলো ফিলিপ লিখেছিলেন গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে। আপনি আর আমি বসে আছি একবিংশ শতাব্দীতে। এই সময়ে বসে আমরা অবশ্যই চাইবো দ্বাবিংশ শতাব্দীকে দেখতে অন্তত সাই-ফাইয়ের বিচারে। যেহেতু গল্পটা ঐ সময়ের হিসেবে লেখা যখন এমনকি স্মার্টফোনও ছিল না; সেহেতু গল্পটাকে আশা করি ঐভাবেই দেখবেন তাহলে হয়তো কয়েকটা গল্প ব্যাকডেটেড মনে হলেও উপভোগ্য মনে হবে। আপনি যদি ফিলিপ কে. ডিককে নাও চিনে থাকেন সমস্যা নেই। এই সিরিজের ইন্ট্রো পার্টে ফিলিপ কে. ডিককে একঝলক দেখানো হয়। বুদ্ধিমান হলে ঠিকই খুঁজে বের করে ফেলতে পারবেন। ইটস আপ টু ইউ নাউ, দেখবেন কি দেখবেন না। তবে অবশ্যই ভালো থাকবেন।
